ঢাকাকে বিদায় করে ফাইনালের পথে চট্টগ্রাম

খেলাদুলা ডেস্ক

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে বাঁচা-মরার ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনকে বিদায় করে ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ঢাকার ১৪৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট ও ১৪ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের চট্টগ্রাম।

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৪ রান করে ঢাকা। ১৪৫ রানের লক্ষ্যে ৩ উইকেটে ১৪৭ রান করে জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম।

১৪৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার ক্রিস গেইল ও জিয়াউর রহমান। উদ্বোধনী জুটিতে ৪২ রান তোলেন তারা। কার্যত সেখানেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় দলটি। মেহেদী হাসানের শিকার হয়ে ১২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ব্যক্তিগত ২৫ রান জিয়াউর ফিরলেও থেকে যান গেইল।
পরে ইনফর্ম ইমরুল কায়েসকে নিয়ে হাল ধরেন তিনি। যথার্থ সমর্থনও পান। একসময় দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। দুজনই চার-ছক্কা হাঁকাতে থাকেন। এতে হু হু করে বাড়ে চট্টগ্রামের রানের চাকা। জয়ের পথেও এগিয়ে যায় তারা। তবে আচমকা থেমে যান ইমরুল। শাদাব খানের বলে সাজঘরে ফেরত আসেন তিনি। ফেরার আগে ২২ বলে ৩ ছক্কার বিপরীতে ১ চারে ৩২ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার।

ইমরুলের আউটের পর ক্রিজে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি গেইল। একই বোলারের বলে বিদায় নেন তিনি। ফেরার আগে ৪৯ বলে ২ ছক্কার বিপরীতে ১ চারে স্বভাববিরুদ্ধ ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব। শেষ দিকে চ্যাডউইক ওয়ালটনকে নিয়ে বাকি কাজটুকু সারেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও মারমুখি ব্যাটিং করেন মাহমুদউল্লাহ। মাত্র ১৪ বলে ৩৪ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। এ পথে ছিল তার ৪টি ছয়ের মার। তবে কোনো চার ছিল না। অপর প্রান্তে ১২ রানে আনবিটেন থাকেন ওয়ালটন।

এর আগে, টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল (৩), এনামুল হক বিজয় (০), মেহেদী হাসান (৭) ছিলেন ব্যর্থ।

স্কোরবোর্ডে ৬০ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারায় ঢাকা। এর মধ্যে মুমিনুল করেন ৩১ রান। অষ্টম উইকেট জুটিতে শাদাব ও থিসারা পেরেরার ব্যাটে ভর করেই ঢাকা দলীয় তিন অঙ্কের ঘর পার করে। পেরেরা ১৩ বলে ২৫ রান করে আউট হন। অন্যদিকে, হাতে সেলাই নিয়ে ব্যাট করতে নামেন মাশরাফি মতুর্জা। তবে দলের প্রয়োজনে শাদাবকে সঙ্গ দিতে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন ঢাকার অধিনায়ক। তবে দুই বলের মুখোমুখি হলেও কোনো রান না করে ইনিংসের শেষ পযর্ন্ত অপরাজিত ছিলেন তিনি।

ঢাকা লড়াকু ইনিংস পায় শাদাবের ব্যাটে ভর করে। ৩৬ বলে দারুণ এক অর্ধ-শতক তুলে নেন তিনি। শাদাব ৪১ বলে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।

চট্টগ্রামের হয়ে এমরিত নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন রুবেল ও নাসুম।