মোশাররফের মৃত্যুদণ্ডের রায় হাই কোর্টে বাতিল

‘দেশদ্রোহী’ মামলায় পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ড
‘দেশদ্রোহী’ মামলায় পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিশেষ আদালতে পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় লাহোর হাই কোর্টে বাতিল হয়ে গেছে। খবর রয়টার্স

সোমবার এক রায়ে লাহোর হাই কোর্ট বলেছে, পারভেজ মোশাররফের বিচারের জন্য যে প্রক্রিয়ায় ওই বিশেষ আদালত গঠন করা হয়েছিল, তা সংবিধানসম্মত হয়নি।

পারভেজ মোশাররফের এক আবেদনের শুনানি শেষে তিন সদস্যের হাই কোর্ট বেঞ্চ বলেছে, যেভাবে ওই মামলা করা হয়েছে, তাও আইনসম্মত হয়নি।

ইসলামাবাদের ওই বিশেষ আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশাররফের অনুপস্থিতিতেই গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ দেয়|২০০৭ সালের ৩ নভেম্বর অবৈধভাবে সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করায় রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মোশাররফকে এ সাজা দেওয়া হয়।

এক মাসের কম সময়ের মধ্যে সেই রায় উচ্চ আদালতে বাতিল হয়ে গেল।

সরকারি কৌসুঁলি ইশতিয়াক এ খান বলেন, “অভিযোগ দাখিল, আদালত গঠন, বিচারের জন্য আইনি টিমের সদস্য বাছাই সবই অবৈধ। তাই সেগুলো অবৈধ ঘোষণা করা হল এবং… এ প্রক্রিয়ায় আসা রায়ও অবশেষে খারিজ করা হল। তার বিরুদ্ধে আর কোনো রায় নেই।”

মোশাররফ কেবলমাত্র দেশদ্রোহের অভিযোগে তাকে বিচারের উদ্দেশ্য নিয়ে বিশেষ আদালত গঠন করাকে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন।

হাইকোর্টের রায়ে আপনা থেকেই মোশাররফের মৃত্যুদণ্ড বাতিল হয়ে যাবে কিনা তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে মোশাররফের আইনজীবীরা এ ব্যাপারে আস্থাশীল।

মোশাররফের আইনজীবী আজহার সিদ্দিক বলেছেন,“ পারভেজ মোশাররফকে নিয়ে হওয়া সিদ্ধান্ত লাহোর হাই কোর্ট বাতিল করেছে।”

এক কৌঁসুলি বলেছেন, হাই কোর্টে সাজা বাতিল হওয়ার অর্থ হচ্ছে মোশাররফ মুক্ত।তবে বিবিসি ঊর্দুতে বলা হচ্ছে, আরেকটি কোর্টে এখনও এ মামলার পুনর্বিচার হতে পারে।

১৯৯৯ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের পর ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পারভেজ মোশাররফ এখন আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে।