বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে বিশ্বের বর্ষসেরা অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস পত্রিকা দ্য ব্যাংকার।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ‌্যায় অর্থমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল যুক্তরাজ্য ভিত্তিক স্বনামধন্য মাসিক ম্যাগাজিন দ্য ব্যাংকার প্রবর্তিত ‘ফিনান্স মিনিস্টার অফ দ্য ইয়ার ফর এশিয়া প্যাসিফিক অ্যান্ড গ্লোবাল এওয়ার্ড ২০২০’ তে ভূষিত হয়েছেন।
পত্রিকাটি ‘ফিনান্স মিনিস্টার অফ দ্য ইয়ার’ পুরষ্কারটি গত ২০০৪ সাল থেকে প্রচলন করেছে। গত বছর এ পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী। তার আগের বছর ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনা’র অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রীদের আর্থিক খাতে গতিশীলতা আনয়নসহ দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপ বিবেচনা করে সার্বিক বিবেচনায় এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এশিয়া-প্যাসিফিক, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ এই পাঁচটি অঞ্চল হতে পাঁচজন অর্থমন্ত্রীকে পুরষ্কৃত করা হয় এবং তাদের মধ্যে থেকে একজনকে বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশে কোনো অর্থমন্ত্রী প্রথমবারের মতো এই পুরষ্কারে ভূষিত হলেন।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল পুরস্কারটি দেশের সর্বস্তরের সকল জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে জানিয়েছেন- এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেই অর্জিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর আ হ ম মুস্তফা কামালকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি ২০১৪-২০১৮ সময়কালে সফলভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তিনি চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে সচল রাখা ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যা অচিরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাসহ ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে।
পর পর তিনটি অর্থবছর ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ার পর গত বছর ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তারকারী শীর্ষ ২০টি দেশের অন্তর্গত বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধি টেকসই করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছর অনেকগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রীর নীতি নির্ধারণী অনেকগুলো উদ্যোগের মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক খাত ও রাজস্ব খাতের সংস্কার প্রণিধানযোগ্য। প্রথমত- ব্যাংক সুদের হার নয় শতাংশে নামিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ। দ্বিতীয়ত- রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকগুলোর যৌক্তিক কারণে খেলাপি হওয়া ঋণ পুনঃতফসিলকরণের উদ্যোগ গ্রহণ। তৃতীয়ত- ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের দেউলিয়া ঘোষণাসহ তাদের সম্পদ অ‌্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে গ্রহণ করে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ।
চতুর্থত- ব্যাংকের পরিবর্তে ক্যাপিটাল মার্কেট হতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ। পঞ্চমত- বন্ড মার্কেট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রথমবারের মতো বাংলা টাকা বন্ড লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ-এ তালিকাভুক্তকরণ। ষষ্ঠত- কর আদায়ে ভ্যাট আইন চালু করা, কাস্টমস আইন সংস্কার করা এবং আয়কর আদায়ের নেট উপজেলা পযন্ত বিস্তারের উদ্যোগ গ্রহণ। সপ্তমত- ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২ শতাংশ প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন অর্থমন্ত্রী।
‘দ্য ব্যাংকার’ পত্রিকা গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্যা ইয়ার ভূষিতকরণের বিষয়টি অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার এ সকল কার্যক্রমের সঠিকতা ও সাফল্যর একটি স্বীকৃতি। এর ফলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশর ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি আরো উন্নত হবে।