নুসরাত হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির আপিল

ফেনীর চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ চার আসামি মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেছেন।

আপিলকারী চারজন হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, নুর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আপিলকারীদের আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকা পরা পাঁচজন। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নুসরাতের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে নুসরাত তাকে অগ্নিসংযোগকারীদের নাম উল্লেখ করেন।

অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ মামলার তদন্ত শেষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরপর গত ২০ জুন এ মামলায় অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত। এরপর মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ সহ সকল বিচারিক কার্যক্রম শেষে গত ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। রায়ে এই মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির সবাইকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এরপর গত ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) নথি হাইকোর্টে আসে।

এ মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন: সোনাগাজী মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মো. রুহুল আমিন, ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম, পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মো. জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে শাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, নুসরাতের সহপাঠী কামরুন নাহার মণি ও উম্মে সুলতানা পপি; আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মো. শামীম ও মহি উদ্দিন ওরফে শাকিল।