মাঠে গিয়ে ধান কেটে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন এমপি

অাক্কাস অাল মাহমুদ হৃদয়।।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) জেলা প্রশাসন কতৃক আয়োজিত কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদে নবান্ন উৎসবে(১৪২৬) মাঠে গিয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির সাংসদ সদস্য সাবেক অাইনমন্ত্রী ও বাংলাদেশ অাওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু এমপি এবং প্রধান অালোচক কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর।

বুড়িচং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসানের সভাপতিত্বে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারার অফিসার আয়াজ মাবুদ এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সহধর্মিনী মুনিরা নাজনীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, এন.এস.আই এর যুগ্ম পরিচালক গাজী মোঃ আলীম উদ্দিন , সহকারি কমিশনার (ভূমি )তাহমিদা আক্তার।

পীরযাত্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাকির হোসেন জাহের’র সার্বিক সহযোগীতায় অনুষ্ঠানে এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এলাকার কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে প্রধান অতিথিসহ সকল অতিথিবৃন্দ ধান কেঁটে নবান্ন উৎসব ১৪২৬ এর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন বাহারী পিঠায় সজ্জিত পিঠা মেলায় অংশগ্রহন করেন। পরে বিভিন্ন শিল্পীদের অংশগ্রহনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

সাংবাদিক
উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক আইন বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেছেন যে, “আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হল এই সময় কৃষকের ঘরে নতুন ধান উঠে। নতুন ধান ঘরে উঠলে কৃষক কৃষাণী আনন্দে মাতওয়ারা হয়ে উঠেন। কৃষক কৃষাণী এসময় নতুন ধানের চাল গুড়া করে ঘরে ঘরে পিঠা পায়েস সহ নানা রকম খাওয়ার আয়োজন করতো।

নবান্ন উৎসবের আয়োজন চলতো বাংলার ঘরে ঘরে । গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য কে ফিরিয়ে আনতে বঙ্গ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবান্ন উৎসবের আয়োজন করছেন। অপর দিকে তিনি আরও বলেন এক সময় আমাদের কৃষক তাদের উৎপাদিত ধান দেশের বাহিরে ও রপ্তানি করত এবং কৃষকের আনন্দ বইত নবান্ন উৎসবের সুরে প্রানে বাঁশি বেজে উঠত।

পরে অতিথিরা হেমন্তের নতুন ধানে ভরে উঠে কৃষকের ঘরে নবান্নেরআনন্দ, এ আনন্দ ঘন উৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে নানাবিধ অনুষ্ঠানের মধ্যে পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে এবং জোবেদা খাতুন কলেজ মাঠে ৭০ প্রকারের পিঠার উৎসব পালন করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কায়জার আম্মাদ ফারাবী, জেলার ডি আই ওয়ান মোঃ মাহাবুব আলম, আর্দশ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন।

আরো বক্তব্য রাখেন ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাড. আব্দুল বারি,বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শামীম হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহীদুল করিম, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ শহীদুর রহমান খান, যুব উনয়ন অফিসার গোলাম আজম,সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ,এলএম গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ মতিন এমবিএ, উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের অাহব্বায়ক ও পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজ সেবক বিল্লাল হোসেন ঠিকাদার সহ সাংবাদিক বৃন্দ।

এছাড়া জেলা পর্যায়ের প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ, এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির গণ্য মান্য ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গ্রাম বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা এবং গ্রামীণ ভাটিয়ালি, বাউল, পল্লী গীতি সহ বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশন করেন বিখ্যাত কন্ঠ শিল্পী বৃন্দ। দিন ব্যাপি এই মনোমুগ্ধকর নবান্ন উৎসবের আয়োজন এলাকার হাজার হাজার কৃষক সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন উপভোগ করেন।