ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ক‌মি‌টি বা‌তিল ঘোষণা

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় সংসদ বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা গেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ গঠন করা হবে।

সেক্ষেত্রে কাউন্সিলে সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে গেলে তাকে নিয়মিত ছাত্র হতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয়তবাদী ছাত্রদলের অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিন ধরনের যোগ্যতা থাকতে হবে।

এর মধ্যে রয়েছে, ১. জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে হবে।

২. অবশ্যই বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে।

৩. কেবলমাত্র ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে যেকোনো বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

তবে কাউন্সিলের জন্য এখনো পর্যন্ত দিনক্ষণ ঠিক করা হয়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের কাউন্সিলের তফসিল পরবর্তীতে জানানো হবে।

গত ৩১ মে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্কাইপের মাধ্যমে লন্ডন থেকে মতবিনিময় করার কয়েক দিনের মাথায় এই সিদ্ধান্ত এল। এর আগে মার্চ মাস থেকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এমন ১২ নেতাকে ছাত্রদলকে ঢেলে সাজাতে দায়িত্ব দেন তারেক রহমান। তাদের মতামতের ভিত্তিতে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, এই ঘোষণায় বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়রদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা নেমে এসেছে। কারণ, তাদের ছাত্রত্ব না থাকায় তাদের পক্ষে ছাত্রদলের রাজনীতি করা সম্ভব হবে না। আবার অন্য কোনো অঙ্গ সংগঠনে জায়গা হবে তাও নিশ্চিত নন।

তবে যাদের কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে তাদের মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক উত্তেজনা কাজ করছে। বিলুপ্ত কমিটির নেতা মামুন খান বলেন, ‘ঐক্যের বিকল্প নাই! আমরা সবাই ভাই ভাই দীঘদিন ধরে যাদের সাথে রাজপথে ছিলাম, যাদের নির্দেশে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি সেই সকল ছাত্রদলের বীর নেতৃবৃন্দের প্রতি সংগ্রামী সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আপনাদের হাতে গড়া ছোট ভাইদের প্রতি আপনাদের আস্থা আছে এবং থাকবে। একইসাথে ছোট ভাইদেরকেও হতে হবে আরও বিনয়ী এবং আনুগত্যশীল।’

২০১৪ সালের অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসেই।

গত আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে সংগঠনটির কার্যক্রম। প‌রে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত মার্চ মাসে সাবেক ছাত্র নেতাদের দিয়ে একটি সার্চ কমিটি করে দেন বিএন‌পির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সার্চ কমিটিতে ছি‌লেন,বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন,

বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, বর্তমান ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান।