সম্পদের হিসাব দিলেন অর্থমন্ত্রী

সম্পদের হিসাব দিলেন অর্থমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের দুই মেয়াদে মন্ত্রী থাকা সময়ের তথা গত ১০ বছরের সম্পদের হিসাব দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময়ে তার সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী অনলাইনে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করে সাংবাদিকদের কাছে সম্পদের হিসাব তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বছরের হিসাবটা দেই, ২০১৭-১৮ ইনকাম ইয়ার, ট্যাক্স ২০১৮-১৯। টোটালি ইনকাম ১৭ লাখ ৯৭ হাজার ৩৪৮ টাকা। ট্যাক্সঅ্যাবল (করযোগ্য) ইনকাম, নন ট্যাক্সঅ্যাবল ১৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৩ টাকা, টোটাল ইনকাম ৩৪ লাখ ২৮ হাজার ৩৪১ টাকা।’

তিনি বলেন, ‘এখন দিচ্ছি টোটাল ট্যাক্স দুই লাখ ২৭ হাজার ৯২১ টাকা, এর মধ্যে এক লাখ ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা দেয়া হয়ে গেছে, আজকের চেকটা হচ্ছে ৬২ হাজার ৪৭৮ টাকার।’

‘আমার ট্যাক্স রিটার্ন খুব কম। কারণ, হলো আমার ইনভেস্টমেন্ট আছে, সেখান থেকে যথেষ্ট লেস ট্যাক্স দেই। ওয়েজ অর্নার বন্ড থেকে পাই ২ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৮ টাকা, সরকারের কাছে থেকে অ্যালাউন্স ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ পাই, পেনশনে থেকে এক লাখ ২৫ হাজার ৩৪২ টাকা, ইউএস ডলার বন্ড থেকে এক লাখ ৫৮ হাজার ১৭০ টাকা, এরপর আছে ডিভিডেন্ট ইনকাম ১৬ হাজার ৯২৩ টাকা। টোটাল ১৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৩ টাকা হলো নন ট্যাক্সঅ্যাবল।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাসেটটা বলি, ১০ বছরের হিসাব করা হয়েছে। ১০ বছর আগে আমি যখন মন্ত্রী হই তখন আমার অ্যাসেট ছিল এক কোটি ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬ টাকা, আর আজকে মানে গত ৩০ জুন, এটা হয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭ টাকা। ইয়েস, এক কোটি ১৩ লাখ টাকা, যত ছিল ঠিক ততটাই বেড়ে গেছে এ ১০ বছরে।’

তিনি বলেন, ‘১০ বছরের টোটাল ইনকাম সেটাও আছে, ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৫০ টাকা, আর এতে অ্যাসেটস ইনক্রিজ হয়েছে এক কোটি ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৪৬১ টাকা। এক্সপেনডিচার আছে। দিস ইজ মাই সিচুয়েশন।’

‘আমি তো আমার ট্যাক্স রিটার্ন পাবলিকলি সাবমিট করছি ফর সেভারেল ইয়ার্স, ১০ বছর এ রুমে বসে বসে।’

 

কর দেয়ার বিষয়ে মানুষের ধারণা পরিবর্তন হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৭ বা ২০০৮ সালে ট্যাক্স অফিসারকে মানুষ পছন্দ করতো না। এ ধারণায় ড্রাম্যাটিক চেঞ্জ হয়েছে। এখন তারা মনে করেন একটি সেবা দিচ্ছে এবং খুশি হয়ে দেশের জন্য কিছু দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগে ট্যাক্স মেলাগুলো। মানুষ মনে করে, সরকার আমাদের জন্য কাজ করে, আমরা রোজগার করছি, সহযোগিতা করছি। তিন বছর আগে ১৫ লাখ মানুষ ট্যাক্স দিত, এখন দেয় ৩৮ লাখ। আশা করি, এক কোটি হতে বেশি দেরি করতে হবে না।’

অন্যান্য মন্ত্রী ও এমপিরা যদি এভাবে ট্যাক্স রিটার্ন দিত তাহলে ভালো হত কি না- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রীরা তাদের হিসাব প্রধানমন্ত্রীকে দেয়, সুতরাং তাদের অ্যাকাউন্টটেবিলিটি আছে। আমার ধারণা, কেউ যদি জানতে চান তাহলে ইজিলি জানতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিটার্ন জানতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স রিটার্ন খুব প্রাইভেট, নিয়ম হচ্ছে আমারটা কেউ জানবে না, এটা ইনডিভিজুয়াল। আমার মনে হয়, আমি রোজগারে সৎ। যদি ডিকলায়ার করি, তাহলে কিছু হবে না।’

এবার নির্বাচন করছেন না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মুহিত বলেন, ‘নির্বাচন তো আমি করছি না, আমার এটা রিল্যাক্স পিরিয়ড যাচ্ছে। ইয়েস কয়দিন পর আমার বয়স ৮৫ হবে। দিস ইজ গুড টাইম টু রিটায়ার্ড। কয়জন আছে, আমার বয়স পর্যন্ত চাকরি করে? হ্যাঁ মাহাথির সাহেব (মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী) আছেন।’

আগামী সরকারে অর্থমন্ত্রী কে হতে পারেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত।’

এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিয়াউদ্দিন মাহমুদ, কর অঞ্চল-৮ এর কর কমিশনার সেলিম আফজালসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।